মানুষ

কাওরান বাজারে বাঘের ম্যুরাল এ চাপা পড়ে ভ্যান চালকের মৃত্যু!

দু দিন আগেই এ ম্যুরালের পাশেই বেশ কিছুক্ষন ছিলাম..

বেচারা অমানুষিক পরিশ্রম করা মানুষ টা পলিথিন মুড়ি দিয়ে ঘুমাচ্ছিলেন..
দু দন্ড স্বপ্ন সুধা…

আহা! বেচারা কি জানত..
সিমেন্ট এর বাঘ ও এত্ত হিংস্র হতে পারে..

তদন্ত কমিটির দরকার নেই..
হবে ও না…

তবে একবার কি এ কাজে নিয়োজিত মানুষদের জিজ্ঞাসা করা যায় না…
কিভাবে ইট – সুরকি- পাথর টা মেশানো হয়েছিল!?

নিউটন সাহেবের একটা সুত্র আছে..


“সমান ও বিপরীত প্রতিক্রিয়া নিয়ে”
জানেন তো…?

বাঘ টা কিন্তু দিনের বেলা স্কুল থেকে ফেরার পথে আপনার ছেলের মাথায় ও পড়তে পারত..!!

তবে ওই যে..
মানিক তো বলেই গেছেন
“ঈশ্বর থাকেন ওই ভদ্র পল্লীতে..
এখানে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না”

নচিকেতার গানের এ লাইন টা আমার খুব ভাল লাগে..

“তোমার ও অসুখ হবে তোমারি দেখানো পথে..
যদি তোমাকেই দেখে কোন ডাক্তার”
এ ভয়টা কিন্তু খুব স্পর্শকাতর..
কেননা..Law of Natural Justice -মোটামুটি অব্যর্থ ..
অন্তত আমি মানি…

মীর জাফরের কাহিনী তো সবার জানা!
তা ও একটু বলি..
সিরাজ ঊদ দৌল্লার হত্যাকারী ১৪ জনের সবার মৃত্য অপঘাতে হয়েছিল!
কেউ বজ্রাঘাতে …
কেউ কুষ্টে…
কেউ বা আত্নহত্যা..

স্যারেরা!
বলা তো যায় না..
হয়ত আপনি প্রমোদ বিলাসে সমুদ্রে গেলেন..
আর চোরাবালি তে আটকে গেলেন..

ভেবেছেন একবার ও…

এবার একটু ভিন্ন আর একজনের কথা বলি…

“আমি ধোলাই খাল থেকে পানি নিয়ে আটলান্টিক মহাসাগর গড়ি নি”
এবং
“আগামী ৫০ বছরেও বাংলাদেশে আমার সমপরিমাণ অর্থ কেউ উপার্জন করতে পারবে না”

যাকে নিয়ে Telegraph এর শিরোনাম ছিল ” Hideously Rich: Man with golden guns”
তিনি হলেন মুসা বিন শমসের!

কেন জানি মনে পড়ে গেল আলফ্রেড নোবেলের “Businessman of Death ” খেতাবটির!

ভদ্রলোক Death Fobia তে ভুগছেন. যে কোন ফোবিয়া এর মত এটা ও Internal / External ট্রমা সংঘটিত.

Behavioral therapist দের মতে প্রতিটি OCD (obsessive compulsive disorder) বা ফোবিয়া হল “অযোক্তিক ভীতি”।
কেন মুসা সাহেবের তা হল…?

বিল গেটস বা বাফেট বা হালের জুকারবার্গ বা সৌদি সোলায়মান এদের কার ও এ ধরনের মানসিক বৈকল্যে নেই। অথচ উনাদের সম্পদের পরিমান মুসা সাহেবের চেয়ে ঢের বেশী…

মুসা সাহেব কারণটা কেন কি বোঝতে পেরেছেন?

মুসা সাহেবের মৃত্যুভীতি থাকার দুটি কারন হয়ত থাকবে –
* উনার অবৈধ উপার্জন উনার অবচেতন মনে এক পাপবোধ জম্ম দিয়েছেন।
অথবা
* উনি উনার ধন সম্পদের ব্যবহার করতে জানেন নি।
জীবনের জন্য জীবিকা..নাকি জীবিকার জন্য জীবন?

সুফিজমের আধ্যাত্মিক প্রশান্তি সম্পুর্ন মনোজাগতিক চিন্তায় নির্ভরশীল ছিল যা স্ব ব্যক্তি নির্ধারণ কৃত। সম্পদের ব্যবহার জানাটা এক্ষেত্রে মুখ্য..

মুসা সাহেব কি তার জীবনে একটি বার ও প্রশ্ন করবেন না –

“Why he will be remembered for”

কেন আপনি বাংলাদেশের James bond of Philanthropy হবেন না!

দেশকে কিছু দিন…
” এসেছিস যখন চিহ্ন রেখে যা”

About author

Author
Ashfaque Abir

Post a comment