ইচ্ছে ডায়েরী

মিষ্টি দিচ্ছেন, না হতাশা !….

Grilled Radicchio Salad

বাংলাদেশের অন্যতম পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল  দিল আজ—-
আনুষ্ঠানিক শিক্ষাযাত্রার আরম্ভ ও বলা যায় …..

এ শিক্ষাজীবন নিয়ে  এক বড় ভাই খুব আক্ষেপ করেই বলতেনঃ-
“বঞ্চিতের ১৭ বছর পার করলাম রে”
(উনার মনে হয়েছিল এ দীর্ঘ ক্ষন টা উনার সাথে শুধু্ই প্রবঞ্চনা করা হয়েছে!)

সতের(১৭)বছরের শিক্ষাজীবন ….!
(৫+৫+২+৪+১)

যা হোক! বর্তমান ছেলে মেয়েদের স্বপ্ন শুধু্ই গোল্ডেন এ প্লাস।
সাফল্য বলতে “গোল্ডেন এ প্লাস”..

কে গোল্ডেন এ প্লাস পেলো বা আর কে পেলো না??

Success is a journey not a destination.
সাকসেস এর সংজ্ঞা বহুমাত্রিক!
এক জন কেরানির চাকরিতেই খুশি-আর একজন CEO হয়েও চির অখুশী হতে পারে-                                  তাই “গোল্ডেন এ প্লাস” যে একমাত্র  সাফল্য নয় তা হয়ত এখন ও বোঝে উঠতে পারে নি !                                    কোনদিন হয়ত বলবে——

Give me some sunshine
Give me some rain
Give me another chance
I wanna grow up once again

যা হোক, আসুন একটা কাল্পনিক বা বাস্তব ছবি দেখি।
প্রথমেই ভাল কলেজে ভর্তিযুদ্ধঃ-

কলেজে ভর্তিযুদ্ধ,যা আবার এ রেজাল্টের ভিত্তিতে।
ধরি,খুবই মেধাবী এক ছেলে যার শারীরিক শিক্ষা/আইসিটি বা বাংলায় এ প্লাস না আসায় গোল্ডেন এ প্লাস আসল না… তবে সে প্রথম সারি তো দূরে থাক ২য় সারির কলেজে চান্স পাবে কি না সন্দেহ।

হতাশা দিয়েই শুরু হবে তার শিক্ষাজীবন।
সমাজের প্রথম অনুধাবন হবে – “আরে সে তো পড়ালেখাই  করে নি, নইলে কি এমন হয়।”

সমসাময়িক তার পিছনের সারিতে বসা ছেলে মেয়েরা ও স্বনামধন্য কলেজে পড়বে-
আর শুরু হবে তার হতাশার প্রথম ধাপ।
“Everyone is born genious , Education makes us stupid. – এ আপ্তবাক্য মনে হতে থাকবে তার।

ধরলাম সে ভাল কলেজ থেকেই ভাল রেজাল্ট করে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করলঃ-
এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিযুদ্ধ। ৬০ মিনিটে ১০০নম্বরের এম.সি.কিউ।

ধরি .৫৪ কম পেয়ে সেই মেধাবী ছেলে/মেয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হল।
(আমাদের সমাজে এখনও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়কেই বিশ্ববিদ্যালয় মনে করা হয়!)

সমাজ কি বলবে- “এরে দিয়ে কিছুই হবে না। কি আর করবে, পড়ছে নাকি সারাদিন তো ফেসবুকে ছিল।”
শুরু হবে হতাশার দ্বিতীয় ধাপ …

এবার শেষ অধ্যায়ঃ-

গ্রাজুয়েশন এবং পোষ্ঠ গ্রাজুয়েশনঃ-
ছেলে কি করে? চাকরি খোজেঁ- বেকার।
চাকরি বলতে সম্মানজনক চাকরি ।

(১) সরকারী প্রথম শ্রেণী,বলতে বিসিএস, বা ব্যাংকে MTO বা মাল্টিন্যাশনাল এ EXECUTIVE এসব  চাকরিই বোঝায়। বাকিগুলো এখনও সমাজসিদ্ধ হয় নি।
সমাজ কি বলে- “এ চাকরি দিয়ে কি বউ দিবে রে!
বেচারা!… বউ পাওয়ার অধিকারটা ও হারাল…

মোটামোটি এ ভাবেই চলছে বাংলাদেশের শিক্ষা পরিক্রমা।

সেই ছেলে/মেয়েটা যে শারীরিক শিক্ষায় এ প্লাস না পেয়ে মধ্যম শ্রেণীর কলেজে ভর্তি হল,
সব দোষ কি তার?
সেই ছেলে/মেয়েটা যে.৫৪ কম পেয়ে  জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে হল।
সব দোষ কি তার?

সেই ছেলে/মেয়েটা যে সমাজের সেরা চাকরি না পেয়ে, “কিছুই করতে পারল না” ভেবে বেচেঁ আছে,
সব দোষ কি তার?
Systematic failure ব্যাপারটা এ ভাবেই প্রতি রাষ্ট্রে জীবন্ত !…

“একমাত্র মৃত্যুই স্বাভাবিক, বেচেঁ থাকা কিন্তু স্বাভাবিক না।”

কে জানি বলেছিল…
Education is a progressive discovery of our own ignorance.

ভেবেছেন, মিষ্টি  বিলাচ্ছেন, না হতাশা বিলাচ্ছেন!..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *