ক্যারিয়ার কথন

ইংরেজির ভয় ব্যবসা

Grilled Radicchio Salad

এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ইংরেজিতে দেশের দশ শিক্ষা বোর্ডে ফেল করেছে ২৪ শতাংশ ছাত্রছাত্রী, গত বছরের চেয়ে ৪ শতাংশ বেশি! হিসেবে প্রায় লাখে ২৫০০০ হাজার! চিন্তা করলে কি ভয়ংকর ! কি অরাধ্য বিষয়!

কেন ৩৩ মার্ক্স পাচ্ছে না!? কেন ভাষাগত একটি বিষয়ে এত ফেল!? এটা তো রকেট সায়েন্স না! কেন ইংরেজির ভিতটা শক্তভাবে গড়ে ওঠে না,প্রতিবেশী  ভারত ইংরেজি ডালভাত করে ফেলেছে! আর আমরা কেন মাত্র ৩৩ পেয়ে পাশ করছি না! কেন?

যতটুকু জানি দেশে প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্টানেই ইংরেজি খুব প্রায়োরিটি দিয়ে পড়ানো হয়, বা না হলেও সরকারী বার্তা বা নির্দেশ দেয়া থাকে! তবে কেন এ ভরাডুবি!

প্রতিবছর যে ভাবেই দেখানো হোক- ” যে লাউ সেই কদু” -অবস্থা! –

বলা যায় বহুবিধ কারন আছে, কারিকুলাম ভাল না , দক্ষ শিক্ষক নেই, গ্রামাঞ্চলে অবকাঠামো ইত্যাদি! তবে বড় যে মানসিক বৈকল্য দিয়ে ইংরেজি কে আটকানো হচ্ছে,তা কেউ বলছেনা , তা হল- ইংরেজি ফোবিয়া, ইংরেজির ভয় তৈরী করা! কথায় আছে
বনের বাঘে খায় না- মনের বাঘে খায়!

চলেন, একটু ভাবি-! ইংরেজি একটা ভাষা যেটা আমরা ক্লাশ ওয়ান থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত পড়ি! বলা যায় প্রায় ১৭ বছর! তবে তারপরও কেন আমরা Impromptu কিছু লিখতে অপ্রস্তুত হয়ে যাই! কনফিউশন চলে আসে! ঠিক হচ্ছে তো! Tense টা ভুল হলো না তো! Indefinite না Perfect? উচ্চারন কি এভাবে না ওভাবে! – ভুল হচ্ছে মনে হয়! লোকে কি যে বলে! ইত্যাদি, ইত্যাদি!

কারণ অনেক আছে, তবে আমার মতে যা অন্যতম – এবং যা নিয়ে কাজ করা উচিত! তা হল – ইংরেজি নিয়ে ভয়ের মনোপলি ব্যবসা!
ইংরেজি খুব কঠিন! –
অশুদ্ব শিখাচ্ছে!
ইংলিশে পাশ তো ভার্সিটি চান্স!
ইংলিশ তো পারবেই না!- এসব শোনা অফ করে দেয়া । 

এরুপ নানা ধরনের ফোবিয়া মিথ চালু করা আছে! বর্তমানে ইংরেজির ভয়ের ব্যবসার বাজার ভাল! স্কুল – কলেজের শিক্ষকরা ইংরেজির যে ভয় ব্যবসা চালু করেছেন! তাতেও ভালই আয় হয়! প্রথম দিনেই বলে দ্যান- ” তোমরা তো দেখি কিছুই পারো না” কি করতে হবে তা না বলে – কি করে ফেলেছে তা নিয়েই পরে থাকেন! ইংরেজি ভয়ের বাজারের তৈরীর জন্য- খাতায় যে জঘন্য লিখেছেন! তা  বলেন, তবে না লিখার জন্য কোচিং এ যেতে বলেন! স্বনামধন্য এক ইংরেজি শিক্ষার কোচিং এর বিজ্ঞাপন তো- “ইংরেজিতে ভয় আর নয়!” অথবা ইংলিশ শিখবো ইংলিশের মতই!– এমন ভীতিকর ট্যাগ লাইনে বিশ্বাসী !

আবার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা ইংরেজিতেই পড়ান। কেমন করে ইংরেজির ভয়কে জয় করবেন তা বলেন তো না!  তারা ধরে নেন এটা সে শিখে এসেছে! আমার কাজ সেটা না! সহমত-!

তবে এতে যে Classroom Anxiety তৈরী হয়,তা থেকে অনেকেই বের হতে পারেন না! অনেক শিক্ষক আবার ক্রিটিসাইজ করেন! আনন্দের সাথেই! এ সব ইংরেজির ভয়ের ব্যবসার মূলধন! মজার ব্যাপার হল ইংরেজি নিয়ে অনেক ব্যবসা করা যায়! এ ব্যবসার প্রোডাক্ট ভাল! এবং মার্কেট Demand ও high!

যেমন :- Writing এর ব্যবসা! গ্রামার শেখানোর ব্যবসা! ফনেট্রিক্স শেখানর ব্যবসা আই.এল.টি এস ব্যবসা জুনিয়র ইংরেজি কোর্স সিনিয়র ইংরেজি কোর্স প্রফেশনাল ইংরেজি হেন তেন- নানা প্রোডাক্ট! ধরি, নূন্যতম তিন মাসের কোর্সে যদি ৫০০০ টাকা করেও নেয় এ ধরনের কোর্স থেকে সব মিলিয়ে নূন্যতম ৫০০ ছাত্র/ ছাত্রী থাকে – তাহলে ১২ মাসের ইনকাম কিন্তু চোখে লাগার মত! (৫০০*৫০০০*১২)- ৩ কোটি টাকা! ধরলাম খরচ বাদ দিয়ে টার্ন ওভার ১ কোটি টাকা! এটাকে কি ইন্ডাস্ট্রি বলা যায় না! ইংলিশ ইন্ডাস্ট্রি!

২৬ টি বর্ণের এ ভাষা – যার আ – কার / ই – কারের ঝামেলা ও নেই! একবার চিন্তা করলেই বোঝা যায় – তা এতো কঠিন হবার কথা না – কলোনিয়াল হায়ারকির মধ্যে ছিলাম বলে! কিছুটা তো আগেই পেয়েছি! আর আমাদের ব্রেইন কল্পনা ও বাস্তবের ভীতির তফাৎ করতে পারে না! নিউরো সায়েন্টিস্টরা অন্তত তাই বলে! এ কারনেই সিনেমায় নায়ক বেদনায় জর্জরিত হয়ে যখন সুইসাইড করতে যায়! আমরা ও কেঁদে কেটে বুক ভাসাই! আহা! নায়কটা মারা যাচ্ছে! পরের সিনেমায় এই নায়ক যে কবর থেকে উঠে আবার নাচানাচি করবে! সব যে সিনেমার শুটিং – এ ধ্রব সত্য ব্রেইন ধরতে দেয় না!

ফলে ইংরেজি কঠিন! পারবে না! ভয়ের বিষয় এটাও এভাবে  আমাদের হৃদ মাঝারে বিরাজমান!
ইংরেজি কি এত কঠিন কিছু যে ১৭ বছরে অন্ততপক্ষে মধ্যম লেভেলে এ আনা যাবে না! ভীতিময়তা  আর আমাদের কর্ন কুহরে তা প্রবেশ করতে দিচ্ছে না । কেউ তো আর বৃটিশ হতে বলছে না! পাশ করানো যাবে না! ৫০ পেতে পারবে না! তাও আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বাস করতে পারে না,  ইংরেজি যে অসাধ্য বিষয়  না! তা ভাবতে পারছে না ! আমি অন্তত বলবো মাধ্যমিকে লেভেলের শিক্ষক দুর্বলতা, অভিভাবকের কোচিং প্রিয়তা বাদে অন্যতম কারণ ইংরেজির ভয়ের ব্যবসা!

আজ কেউ ইংরেজি শিখতে চাইলে আজকাল শত শত ইউটিউব টিউটোরিয়াল আছে, ইংলিশ লারনিং এর যা চাইবেন তা! একবার করে দেখলেও হবে!

পড়ুন , যা ইচ্ছে ফিকশন – নন ফিকশন, পত্রিকা যেটা পড়তে ভাল লাগে! তা ইংরেজিতে পড়ুন!সেটা খেলার পাতা! বা ক্যাটরিনার বিয়ের খবরই হোক! ১৫-৩০ মিনিট ব্যস!

আমরা যা শুনি তাই বলি! ছোট্ট বাচ্চারা শুনেই কথা শিখে – শোনা থেকে টানা ১ মাস বোঝেন না বোঝেন শুনুন! এমনিতেই ভাল লাগবে! দেশের ছোট্ট বাচ্চারাও ডরেমন কার্টুন দেখে হিন্দি তে ফ্লুয়েন্ট হয়ে গেল! বোঝেন Power of listening! সিনেমা দেখেন! বিবিসি দেখেন! আল জাজিরা দেখেন! শাকিরা র গান দেখেন! ভয় টা দূর করেন!

আর কিছু না! নিয়মিত ইংরেজি পরিবেশ তৈরী করতে হবে । ভুল হোক, আর ঠিক হোক। লজ্জা শরম সব তোলে রাখতে হবে। আপনি যদি কাউরে লন্ডনে টেমস নদীর পাড়ে ৫ বছর রেখে দ্যান! দেখবেন কি সুন্দর ইংরেজি বলছে ৫ বছর পর! চারপাশের পরিবেশটা খুব কাজে দেয়!

সবচেয়ে বড় কথা সাহস করুন, প্রতিটা কাজে সাহসই সব! যত সফল ব্যক্তি সবাই মেধাবী তো অবশ্যই ছিলেন তবে সাহসী ছিলেন অনেক বেশী ! যা ইচ্ছা ছিল- বিশ্বাস করতেন – তা সাহসের সাথেই করতেন!

ইংরেজি ফোবিয়া বা ভীতিকে একবার GOOD BYE বলুন !ব্যস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *